LinkedIn

Wednesday, 28 May 2025

Tuesday, 29 April 2025

English Proverbs ll Brain Tech Tutorial



Proverb
: 
"A hungry stomach has no ears."
Meaning:
When someone is extremely hungry, they cannot focus on anything else not advice, not warnings, not even important conversations. Hunger becomes the first and only priority.

Example:
The teacher kept advising the children to behave, but it was useless. They hadn’t eaten all day. Truly, a hungry stomach has no ears.

 

Monday, 28 April 2025

Vietnam War ll Turning Point

History of Vietnam War



বিশ্ববিবেককে কাঁপিয়েছিল যে ছবিঃ

১৯৭২ সালের ৮ই জুন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে নাপাম বোমার আগুনে জ্বলছে Trang Bang গ্রাম। আগুনে দগ্ধ নয় বছরের নগ্ন বালিকা Kim Phúc (ফুক) ও আতঙ্কিত কিছু শিশু জীবন বাঁচাতে দৌড়ছে। উল্লিখিত ছবিটি তুলেছিলেন Associate Press-এর ফটোগ্রাফার Nick Ut। তিনি এই ছবিটির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। নাপামের আগুনে দগ্ধ ও আতঙ্কগ্রস্থ কিম ফুকের নগ্ন ছবিটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ তথা ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে আগুনে ঘৃতাহুতির মত কাজ করেছিল।

🦋

ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৯-৭৫): 
ওরভিয়েতনাম চীন ও জাপানের পর ফ্রান্সের অধীনে ছিল। ১৯৫৪ সালে জেনেভা চুক্তির আওতায় কমিউনিস্ট ও জাতীয়তাবাদীদের দাবীর মুখে সাময়িকভাবে ভিয়েতনামকে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামে বিভক্ত করা হয়। ১৯৫৭ সালে উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট গেরিলারা National Liberation Font for South Vietnam-র (ভিয়েতকং) অধীনে সংগঠিত হয়ে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিল চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৬৮ সালে নিক্সন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের নৃশংসতা বেড়ে যায়। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, যুদ্ধবিরোধী মার্কিন জনমত, মাই লাই হত্যাকান্ডের নৃশংসতা, বিশ্বব্যাপী মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ-নিন্দা ইত্যাদি কারণে আমেরিকানদের আর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ১৯৭৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে চরম মূল্য দিয়ে পর্যুদস্ত হয়ে দেশে ফিরে যায় এবং পরে দক্ষিণ ভিয়েতনামী সৈন্যরা উত্তর ভিয়েতনামের কাছে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭৬ সালে কমিউনিস্ট সরকার উভয় ভিয়েতনামকে একত্রিত করে। যুদ্ধে আমেরিকার নিহতের সংখ্যা ৫৮,০০০ ও আহতের সংখ্যা ৩,০৪,০০০। উত্তর ভিয়েতনামের নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ। 
🦋

ট্রাং বাং সায়গনের চল্লিশ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত একটি গ্রাম। ভিয়েতনামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর সায়গন ও নমপেনের সংযোগকারী একমাত্র সড়ক "রুট ওয়ান" গেছে এই গ্রামের মধ্য দিয়ে। উত্তর ভিয়েতনামী সৈন্য ও কম্যুনিস্ট গেরিলারা গ্রামটি দখল করে সড়কটি বন্ধ করে দেয়। দঃ ভিয়েতনামী সৈন্যরা সড়কটি মুক্ত করতে ট্রাং বাং গ্রামের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। কয়েকদিন ধরে মাঝেমধ্যে দুই একটা গুলির শব্দ শোনা গেলেও যুদ্ধের তেমন একটা আলামত দেখা গেল না। যুদ্ধের খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিল নিক ওটসহ দেশবিদেশের কিছু সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার। গ্রামটির অনেক লোক ইতিমধ্যে অন্যত্র চলে গেলেও কিছু লোক রয়ে গেল। তাদের ধারণা এখানে যুদ্ধ হবে না। কারণ কমুনিস্ট গেরিলারা গ্রামটি ছেড়ে চলে গেছে। দুপুরের দিকে দঃ ভিয়েতনামী সৈন্যদের কমান্ডার অতিরিক্ত সাহায্যের জন্য Bien Hoa Airforce Base-এ বার্তা পাঠালেন। সাংবাদিকেরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে গ্রামটির দিকে নজর রাখলেন। যে কোন মুহুর্তে গেরিলারা পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। দঃ ভিয়েতনামী সৈন্যরা গ্রামটির দিকে কয়েকটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করল। সেগুলো বিষ্ফোরিত হয়ে বাতাসে হলুদ বর্ণের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ল। গ্রেনেডের শব্দ শোনে ভাইবোনসহ কিম ফুক ও তার কাজিনরা গ্রামের একমাত্র প্যাগোডাতে আশ্রয় নিল। কয়েক মিনিট পর দু'টি এয়ারক্রাফট উড়ে এসে প্যাগোডার পাশে বোমা ফেলল। এরপরও কোন গেরিলাকে পাল্টা আক্রমণ করতে বা পালিয়ে যেতে দেখা গেল না। এয়ারক্রাপ্টগুলো আরেকটা চক্কর মেরে এসে একই জায়গায় আবারো বোমা ফেলল। তবে এবারের বোমাগুলো দেখতে বড় বড় ড্রামের মত। এগুলো ছিল নাপাম বোমা। চোখের পলকে পুরো গ্রামটি একটি অগ্নিকুন্ডে পরিণত হল। কিম ফুকের শরীরে আগুন ধরে গেলে সে জামাকাপড় টেনে ফেলে দিল। নাপামের আগুনে তখন তার শরীর ঝলসে গেছে। যন্ত্রনায় চিৎকার করে সে ও অন্যান্য সবাই রাস্তার দিকে দৌঁড়তে লাগল। দঃ ভিয়েতনামী সৈন্য ও সাংবাদিকেরা হতভম্ব হয়ে দেখতে লাগলেন, জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড থেকে দগ্ধ-অর্ধদগ্ধ মানুষের গগনবিদারী চিৎকার, দিগ্বিদিক ছুটাছুটি এবং জীবন বাঁচানোর শেষ প্রচেষ্টার বীভৎস দৃশ্য! বিশ্ব কাঁপানো ছবিটি ছিল নিক ওটের তোলা এইসব বিভৎস দৃশ্যেরই একটি। ওট যখন কিম ফুককে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলেন তখন সে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে আর চিৎকার করছে "Nong qua, Nong qua" (খুব গরম, খুব গরম)। সেই মুহুর্তে সাংবাদিকরা তাঁদের কাছে পান করার যে পানিটুকু ছিল তা ফুকের শরীরে ঢেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।
*লেখাটি সংগৃহীত 

ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিখ্যাত এই ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের নজির স্থাপন করেছে 

On April 28, 1967 Muhammad Ali refused to be drafted to fight
in Vietnam.

“I have nothing to lose by standing up for my beliefs. So I'll go to jail, so what? We've been in jail for 400 years.”


Thursday, 27 March 2025

Wedding of a human being with Krishna idol in Krishnanagar ll Devadasi System in India ll An Investigation ll Rabi Roy

Wedding Of A Human Being with  Krishna Idol in Krishnanagar 

(This report was originally written in 1998. The current article is a rewritten version based on the initial content.)
The picture is symbolic  

  Authored by: Rabi Roy 


It was 1995 when I encountered a local daily news-article dated August 21, titled '35-year-old woman 'wedded' to Krishna idol'. As reported by The Telegraph Calcutta (currently Kolkata) edition, a prominent English daily, Jyotsna Datta, an unmarried middle-aged woman and daughter of Nalinikanta Datta, a retired Census worker from Bhatjangla gram (village) Panchayat, Nadia district, West Bengal (WB), India, was married to a Krishna idol in May 1995, purportedly at the instigation of Bamdev Mishra, a 75-year-old priest of a local temple and originally from Orissa, prompting me to rush to the village.


So far my knowledge concerns, the devadasi system existed in undivided Bangladesh, formerly an Indian province, until the 11th century. Nonetheless, there is no indication of its continuation in recent centuries, and the Bhatjangla incident can thus be viewed as a unique precedent in WB, at least during the period following Indian Independence.

Bordering National Highway 34, which passes through Krishnanagar, a historic town in Nadia district, WB, and situated within walking distance from the station, Bhatjangla is a considerable village with a population of nearly fifteen thousand, of which eighty percent are literate.

On November 10, 1998, I spent a couple of hours in that village and met a few villagers, including Jyotsna, the aforementioned devadasi. Mr. Partha Sikder, a local CPI (M) activist who accompanied me during my visit to Bhatjangla, confessed his ignorance about the gravity of the incident involving the transformation of a woman into a bride of a mute idol, which occurred in a Left-dominated village.  

I had the pleasure of meeting Badal Mishra, a middle-aged priest of the Baba-Ma'r Mandir (temple), through Mr. Sikdar. The temple is dedicated to 'Baba' (Lord Shiva) and 'Ma' (Mother Kali). Notably, Mr. Mishra is the son of Bamdev Mishra, the previous priest of the same temple, who had persuaded Jyotsna to become a divine bride three years ago. 

Hailing from Gangadharpur village in Orrissa's Bhadrak district, Bamdev Mishra passed away in 1997, following to which his son Badal took charge of the temple. At the time of interaction, Badal acknowledged the reported incident published in the aforementioned daily. He further stated that he had disagreed with his father regarding the issue, though he stammered while I asked for his views on the notorious custom which once plagued his home state of Orissa. While conversing on the temple's outdoor terrace, some impoverished villagers gathered and expressed their pride in the divine marriage celebration within their village.

Thereafter, Mr. Sikder facilitated an introduction to Nagendra Nath Dutta, a distinguished figure in the village, a physician by profession, and the founder of the aforementioned temple. Dr. Dutta, a 73-year-old devotee of Hindu mythology and a supporter of Bharatiya Janata Party (BJP), who employed Bamdev Mishra for temple services subsequent to its founding a few years ago, told me that he knew Jyotsna, but he had not heard anything prior to the marriage from either her or the priest, and he expressed regret over the incident. He pointed out that it might be a circumstance where the priest and his associates were convinced of his lack of support for the unwanted practice in the village. "But this is an isolated incident and it could have no enduring impact on this village and surrounding areas", Dr Dutta commented when I asked about the incident's repercussions. He also confirmed that it had no connection with the practice of prostitution; Mr. Sikder shared the same opinion, as well. What factor allowed the priest to commit such an unlawful act, despite being appointed by Mr. Dutta, who, as his appointing authority, was in opposition? Due to time constraints, this matter has not been further explored. Incidentally, Badal Mishra accompanied us during our visit to meet Dr. Dutta, but he chose to remain silent while we were in conversation.
"But this is an isolated incident and it could have no enduring impact on this village and surrounding areas", asserted Dr. Dutta.
                                  ***

What prompted Jyotsna to agree with the priest? The explanation I obtained when I visited her father's residence at Natun Kalipur, a locality (para in local language) of the village Bhatjangla, where Badal escorted me and introduced me to her and her parents.

At first glance, I observed that Jyotsna, whose name literally translates to moonlight, lacked conventional physical appeal and had discernible imperfections, including a distinctive nasal tone to her speech. From discussions with her parents, I learned that they attempted to arrange her marriage while she was young, but unfortunately, they were unable to find a suitable match due to her physical limitations. Eventually, assuming she would likely remain unmarried, they discontinued their efforts. 

Our conversation revealed that Jyotsna had been devoted to worshipping Gopal, the younger Lord Krishna, at home since she was a child. As she transitioned into a fully grown young woman, she, as per her statement before me, was supposed to dream of her Gopal playing the flute and also heard the sound of the anklets as she awoke.

-Have you met him as of now?

When I asked, she responded promptly, "Yes, the day before yesterday, he came."

This state of mind obviously demonstrates her mental deviation, which can be medically classified as Schizophrenia.

Through discussions, I also learned that she regularly visited the aforementioned temple and was introduced to Bamdev Mishra, the priest in question, there. Gradually, they became intimate. The fraudulent priest, likely attempting to introduce the Orissa-patterned devadasi custom in the said temple to attract more devotees and increase his income, took advantage of her mentally weakened state and her social status as an unmarried woman in Hindu society for an extended period. In the end, he effectively convinced her by devising a story that God himself wished to marry her, as reported in the press.

However, during our interaction, Jyotsna contradicted the report suggesting she felt frustrated after a few months of marriage, instead expressing her happiness, stating, "I'm quite pleased now with my Gopal as husband as I was when baba, the priest, proposed me". 

Following the wedding ceremony, the priest in question proclaimed with conviction that she would conceive a child under mysterious circumstances. However, this had not transpired at the time of my visit years ago.

When I met Jyotsna near the end of the last century, she had no regular association with the temple in question and devoted her time to household chores and worshiping the Gopal idol at her parents' residence.
                                   *** 

Nalinikanta Datta, an eighty-five-year-old man with severe physical limitations, did not hide his frustration when asked about the circumstances of his consent to his daughter's marriage to a mute idol. Mr. Datta would undoubtedly derive immense pleasure from witnessing his elder daughter marry someone as accomplished as his younger daughter, Swapna Datta (now Roy). With a monthly pension of a mere Rs. 1500 and a diffident personality, Mr. Datta lacked the capacity to confront the deceitful priest, who preyed upon his socially vulnerable situation. Moreover, his immediate neighbors, who were keen to attend a divine marriage ceremony, convinced him to accept the priest's proposal. Even one of his next-door neighbors, Khitis Das, took responsibility for organizing the celebration, which was attended by an estimated nearly five hundred villagers, among whom sweets were served after the ritual function concluded, as stated by Mr. Datta. Although Mr. Datta and his wife attended the ceremony, they had no control except to cover the costs of every arrangement.



While talking to Jyotsna and her parents, several neighbouring women, including the wife of Khitis Das, visited me. Mrs. Das said, "We have heard a lot about divine marriage, but we have never seen it." She further stated, "We are delighted to have witnessed such a unique function and to have experienced such a sacred event within our community." Other women, mostly married, shared her sentiment. Mrs. Das's young daughter was also present there.

"Would you accept a proposal for your daughter's marriage to a mute idol?"- I questioned Mrs. Das, and she shook her head to express her dissent.

-What are Jyotsna's prospects following her father's death?

I queried Mrs. Das, who replied, "God will alleviate her difficulties."

My investigation was finalized, and all relevant facts had been uncovered. Prior to departing Jyotsna's residence, my last conversation was with her younger sister, Swapna Roy, a nurse at the local Shakti Nagar Hospital, who resided separately in the same house with her children. In response to queries regarding her elder sister's alleged divine marriage, she stated, "She has made her own decision, I have nothing to say," thus avoiding further discussion.

                                   ***

Despite the devadasi system being a punishable offense, I found no genuine opposition to it in the area during my visit, except from Badal Mishra. Badal, the young priest, escorted me to the station to see me off. Before boarding the train, I gave him Rs. 10 as a token of appreciation for the services he rendered. The amount was extremely modest, but my purse was virtually depleted that day. Despite this, I witnessed a noticeable brightness on his face upon receiving the paltry sum. He then took his leave, inviting me to visit the temple on my next trip.

During my return train journey, I felt a sense of excitement as it was reflected in the narratives. The incident left me utterly astonished, particularly by the courage of a young priest from another state, who, despite being barefooted and dressed in simple attire, and sporting a smiling face, dared to counter the ill-intentioned motive of his father, who was supported by a significant number of villagers, while political parties and local administration chose to remain silent. Furthermore, in the three years that followed the incident, no rehabilitation efforts for the victim were undertaken, or at least, I was not aware of any such efforts during my visit to the village.


Does this account not tarnish the pride of our progress?

                              ***


In 2025, I do not know if Jyotsna is still alive, considering my last visit with her was long ago. 
If she has survived, what is her present state of being?



🦋 


*The images and videos displayed on this webpage have no relation to the original text. They are used solely to enhance the text's appeal. Proper credit for the images and videos should go to their original creators or organizations.

Thursday, 6 March 2025

বাংলা সাহিত্য সংগ্রহ ll অনুবাদ সাহিত্য

     
সদগতি -মুন্সী প্রেমচন্দ 
অনুবাদ -ননীগোপাল শূর
✍️
এক
বাড়ির দরজায় ঝাট দিচ্ছে দুখী চামার। ওর বৌ ঝুরিয়া গোবর দিয়ে ঘর নিকোচ্ছে। দু’জনেরই কাজ সারা হলে ঝুরিয়া দুখীকে বলল, এবার তাহলে তুই গিয়ে পণ্ডিতমশাইকে বলে আয়, উনি আবার অন্য কোথাও বেরিয়ে-টেরিয়ে যান।

দুখী–হ্যাঁ যাচ্ছি, কিন্তু ভেবে দেখ তো উনি বসবেন কিসে?

ঝুরিয়া–কোথাও একটা খাঁটিয়া-ফাটিয়া পাবি না? বামুনপাড়া থেকে না-হয় একটা চেয়ে নিয়ে আসিস।

দুখী–তুই মাঝেমাঝে এমন সব কথা বলিস যে, শুনলে পিত্তি জ্বলে যায়। বামুনপাড়ার ওনারা আমাকে খাঁটিয়া দেবে কেন! একটুকুন আগুন পর্যন্ত বাড়ি থেকে দেয় না, খাঁটিয়া দেবে! কুয়োর ধারে গিয়ে এক ঘটি জল চেয়ে পাই না, আর খাঁটিয়া দেবে! এ কি আমাদের খুঁটে, কঞ্চি, ভূষা কিংবা কাঠ যে, যার যেমন খুশি নিয়ে চলে যাবে। নে, আমাদের খাঁটিয়াটাকেই ধুয়েটুয়ে রেখে দে। গরমের দিন, ঠাকুরমশাই আসতে-আসতে শুকিয়ে যাবে।

ঝুরিয়া–আমাদের খাঁটিয়াতে উনি বসবেন না। দেখিসনি কী রকম আচারে-বিচারে থাকেন।

দুখী একটু চিন্তিত হয়ে বলল, তাও তো বটে। তাহলে মহুয়াপাতা পেড়ে এনে একটা আসন বানিয়ে নিলে হয় না। মহুয়া তো বড়-বড় লোকেরা খায়। মহুয়াপাতা পবিত্তর। দে তো লাঠিটা, ক’টা পাতা পেড়ে আনি।

ঝুরিয়া–পাতা দিয়ে আসন আমি বানিয়ে রাখবখন। তুই যা। আর হ্যাঁ, ঠাকুরমশাইয়ের জন্যে তো সিধেও নিতে হবে। আমাদের থালাটাতে সিধে সাজিয়ে রেখে দেব।

দুখী–কখনো অমন সব্বনাশটি করিস না। তাহলে সিধেও যাবে, থালাখানাও ভাঙা পড়বে। একটান মেরে বাবাঠাকুর থালাখানাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। ওনার বড় তাড়াতাড়ি রাগ চেপে যায়, রাগ চাপলে বামুনমাকেও ছেড়ে কথা কন না; ছেলেটাকে তো এই সেদিন এমন ঠ্যাঙানি ঠেঙিয়েছেন যে, বেচারা আজও ভাঙা হাত নিয়ে ঘুরছে। পাতাতে করেই সিধে দিস। হ্যাঁ, দেখিস তুই কিন্তু কিছু ছুঁস না। গোঁড়ের মেয়েকে ডেকে নিয়ে সাহুর দোকান থেকে সব জিনিস নিয়ে আসিস। সিধেতে সব জিনিস যেন ঠিক থাকে। সেখানেক আটা, আধ সের চাল, পোয়াটাক ডাল, আধপো ঘি, নুন-হলুদ না দিস আর পাতার এক কোণে চার আনা পয়সাও রেখে দিস। গোঁড়ের মেয়েকে না-পেলে তুই ভুর্জিনক হাতে-পায়ে ধরে ডেকে নিয়ে যাস। দেখিস তুই কিন্তু কিছু ঘঁস না, তাহলে সব্বনাশ হয়ে যাবে।

সব কথা ভালো করে বুঝিয়ে-পড়িয়ে দুখী লাঠিটা নিয়ে ঘাসের একটা বড়সড় গাঁটরি মাথায় চাপিয়ে পণ্ডিতমশাইকে খোশামুদি করতে চলল। খালি হাতে বাবাঠাকুরের সামনে যায় কোন মুখে। আর নজরানা বলতে ঘাস ছাড়া ওর কাছে আর কিই-বা আছে। ওকে খালি হাতে দেখলে ঠাকুরমশাই তফাৎ থেকেই যে দূর-দূর করে খেদিয়ে দেবেন।

দুই
পণ্ডিত ঘাসীরাম পরম ঈশ্বরভক্ত। ঘুম থেকে উঠেই পূজার্চনা নিয়ে পড়েন। হাতমুখ ধুতে-ধুতে আটটা বাজে। তারপর শুরু হয় পুজো। পুজোর প্রথম কাজ হল ভাঙ ঘোটা। তারপর আধঘণ্টা ধরে বসে চন্দন ঘষেন, আয়নার সামনে বসে একটা কাঠি দিয়ে কপালে তিলক আঁকেন। চন্দনের দুটো রেখার মাঝখানে সিদুরের লাল ফোঁটা কাটেন। একে-একে বুকে, হাতে, গোল-গোল মুদ্রা আঁকেন চন্দনের। এরপর ঠাকুরের বিগ্রহকে স্নান করান, চন্দন দিয়ে সাজান, সামনে ফুল দেন, আরতি করেন, ঘণ্টা বাজান। দশটা নাগাদ উনি পুজো সেরে ওঠেন। ভাঙের শরবত খেয়ে ঠাকুরঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণে দু’-চারজন যজমান এসে পড়ে বাড়িতে। ঠাকুরপুজোর ফল হাতে-হাতে পেয়ে যান। এই হল ওঁর পেশা।

আজ ঠাকুরঘর থেকে বেরিয়ে এসে উনি দেখেন দুখী চামার এক গাঁটরি ঘাস নিয়ে বসে আছে। দুখী ওকে দেখেই সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ করে জোড়হাতে উঠে দাঁড়ায়। বাবাঠাকুরের তেজোময় মূর্তি দেখে দুখীর হৃদয় শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে! আহা কী দিব্য মূর্তি। ছোটখাট গোলগাল চেহারা, মসৃণ ভাল, প্রসন্ন বদন, ব্রহ্মতেজে প্রদীপ্ত নয়ন। সিঁদুরে আর চন্দনরেখায় দেখাচ্ছে যেন দেবতা!

দুখীকে দেখে শ্রীমুখে বলে ওঠেন, আজ কী মনে করে এলি রে দুখীয়া!

দুখী মাথা হেঁট করে বলে, মেয়েটার বিয়ে দিচ্ছি বাবাঠাকুর! পাঁজিপুঁথি দেখে একটা শুভলগ্ন দেখে দিতে হবে যে। কখন দয়া হবে বাবা?

ঘাসী–আজ তো সময় হবে না রে। ঠিক আছে, না-হয় সন্ধে নাগাদ যাব।

দুখী–না না, বাবাঠাকুর, একটু তাড়াতাড়ি চলুন। আমি সব কিছু ঠিকঠাক করে রেখে এসেছি। এই ঘাসটা কোথায় রাখি?

ঘাসী–এই গরুটার সামনে দিয়ে দে ওটা। আর ঝাড়গাছা নিয়ে বাড়ির দরজাটা একটু ঝটপাট দিয়ে পরিষ্কার করে দে তো। বৈঠকখানাটাও আজ ক’দিন ধরে লেপা-পোঁচা হয়নি। ওটাকে একটু গোবর দিয়ে লেপে দে। আমি ততক্ষণে সেবাটেবা সেরে নিই। তারপর একটুখানি বিশ্রাম নিয়ে যাব। হ্যাঁ, এই কাঠটাকেও একটু চিরে দিস তো। আর শোন, খামারে ঝুড়ি চারেক ভূষি পড়ে আছে, ওগুলোকে নিয়ে এসে ভূষি রাখার ঘরটায় রেখে দিস, কেমন।

দুখী সঙ্গে-সঙ্গে হুকুম তামিল করতে শুরু করে দিল। দরজায় ঝাড় দিল, বৈঠকখানাকে নিকিয়ে দিল গোবর দিয়ে। এসব কাজ সারতে-সারতে বেলা বারোটা বেজে গেল। পণ্ডিতমশাই খেতে যান। দুখী সকাল থেকে কিছু খায়নি। জোর খিদে পেয়েছে ওরও; কিন্তু এখানে কে ওকে খেতে বলেন। বাড়ি এখান থেকে মাইলখানেক দূরে। বাড়ি খেতে গেলে পণ্ডিতমশাই যদি রাগ করেন। বেচারা খিদে চেপে কাঠ চিরতে শুরু করল। মোটা মতন একটা গাঁট, এর ওপর এর আগে কত-না শিষ্য তাদের শক্তি পরীক্ষা করছে। দুখীও একই শক্তি আর দৃঢ়তার সঙ্গে এই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হল। দুখীর কাজ ঘাস কেটে বাজারে নিয়ে গিয়ে বেচা। কাঠ চোরার অভ্যাস আদৌ নেই তার। ঘাস ওর খুরপির সামনে মাথা নোয়ায়। দুখী ঠিকরে যায়। ঘেমে নেমে ওঠে দুখী, হাঁপাতে থাকে, অবসন্ন হয়ে বসে পড়ে, আবার উঠে দাঁড়ায়। হাত ওঠাতে গিয়ে ওঠাতে পারে না। পা দুটো কাঁপে, কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারে না। চোখে আঁধার ঘনিয়ে আসে, মাথা ঝিমঝিম করে! তবুও সে কাজ করে চলে। ভাবে, এক ছিলিম তামাক যদি টানতে পেতাম হয়তো একটু তাগদ পেতাম। কিন্তু কলকে তামাক এখানে পাব কোথায়? বামুনদের পাড়া। বামুনরা তো আর। আমাদের নিচু জাতের মতন তামাক খায় না। হঠাৎ খেয়াল হয় এ-গাঁয়ে তো এক ঘর গোড়ও আছে। ওর কাছে গেলে ঠিকই কল্কে-তামাক পাওয়া যাবে। সঙ্গে সঙ্গে দুখী ছোটে ওর বাড়ি। যাক্, পরিশ্রম সার্থক হয় সে তামাক দেয়। কিন্তু আগুন পাওয়া গেল না সেখানে। দুখী বলে, আগুনের জন্য ভেব-না ভাই! আমি যাচ্ছি, পণ্ডিতমশাইয়ের বাড়ি থেকে চেয়ে নেব। ওঁর বাড়িতে তো এই একটু আগেও রান্না হচ্ছিল।

এই বলে জিনিস দুটো নিয়ে দুখী চলে আসে। পণ্ডিতমশাইয়ের বাড়ির দেউড়িতে দাঁড়িয়ে ডাকে, বাবাঠাকুর, একটুন আগুন যদি পেতাম এক ছিলিম তামাক টেনে নিতাম।

পণ্ডিতমশাই খেতে বসেছিল। পন্ডিতগিন্নী জিজ্ঞেস করেন, আগুন চাইছে কে এটা?

পণ্ডিত–আরে ওই শালা দুখিয়া চামার। ওকে বলেছি কাঠটাকে একটু চিরে দিতে। আগুন তো রয়েছে, দাও-না একটু।

পন্ডিতগিন্নী ভুরু কুঁচকে বলে ওঠেন, পুঁথিপত্তরের ফেরে পড়ে ধরম-করম সব কিছুর তো মাথা খেয়ে বসে আছ। চামার হোক, ধোপা হোক, নাপিত হোক, মাথা উঁচু করে একেবারে ভেতরবাড়িতে চলে আসবে! এ যেন হিন্দুর বাড়ি নয়, একটা সরাইখানা। বলে দাও পোড়ারমুখোকে চলে যেতে, না হলে এই পোড়াকাঠ দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেব। আগুন চাইতে এসেছে!

পণ্ডিতমশাই বুঝিয়ে বলেন, ভেতরে চলে এসেছে তো কী হয়েছে? তোমার তো। কোনো কিছু ছোঁয়নি। মাটি হল পবিত্র। একটুখানি আগুন দিয়ে দিচ্ছ-না কেন? কাজটা। তো আমাদেরই করছে। কোনো মজুর লাগিয়ে এই কাঠ চেলাতে গেলে কম করে চার আনা পয়সা তো নিত।

পন্ডিতগিন্নি মুখঝামটা দিয়ে বলেন, ওটা বাড়িতে ঢুকেছে কেন?

হার মেনে বলেন পণ্ডিতমশাই-শালার কপাল খারাপ, এছাড়া আর কী?

পন্ডিতগিন্নী–বেশ, এবারের মতো আগুন দিয়ে দিচ্ছি; কিন্তু আবার যদি এভাবে কোনো ব্যাটা বাড়িতে ঢোকে তো তার মুখে নুড়ো জ্বেলে দেব।

সব কথাই কানে আসে দুখীর। মনে-মনে পস্তাচ্ছে–কেন যে শুধু-শুধু এলাম। সত্যি কথাই তো। বামুনপণ্ডিতের বাড়ির ভেতরে চামার ঢোকে কী করে! বড় পবিত্তর এনারা, তাই তো দুনিয়ার সবাই এত খাতির করে, তাই তো এত মান্যিগন্যি। মুচি-চামার তো নয়। এই গাঁয়েই বুড়ো হলাম। আর এ আক্কেলটুকুন হল-না আমার। তাই পন্ডিতগিন্নী আগুন নিয়ে বেরুলে দুখী যেন হাতে স্বর্গ পায়। জোড় হাত করে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে বলে, মা-ঠাকরুণ, বড় ভুল হয়ে গেছে গো। বাড়ির ভেতরে চলে এসেছি। চামারের বুদ্ধি তো মা! এতটা মুখ্যসুখ্য যদি নাই হব, তাহলে লাথিঝেটা খাব কেন?

পন্ডিতগিন্নী চিমটেয় ধরে আগুন এনেছেন। হাতপাঁচেক দূরে দাঁড়িয়ে ঘোমটার আড়াল থেকে আগুনটাকে দুখীর দিকে ছুঁড়ে দিলেন। বড় একটা আগুনের টুকরো এসে দুখীর মাথায় পড়ল। তাড়াতাড়ি পিছু হটে সে মাথা ঝাঁকাল। তার মন বলে উঠল, এ হল গে পবিত্তর বামুনের বাড়িকে অপবিত্তর করার সাজা। ভগবান হাতে-হাতে সাজা দিয়ে দিয়েছেন। এজন্যেই তো সারা দুনিয়া বামুনদের এত ভয় করে। অন্যসব লোকের টাকা-পয়সা মার যায়। কই বামুনদের পয়সা মেরে নিক তো কেউ। গুষ্টিসুষ্ঠু সবার সব্বনাশ হয়ে যাবে না, পা পচে-পড়ে খসে পড়বে-না!

বাইরে এসে সে তামাক খায়, তারপর আবার কুড়ল নিয়ে কাজে লেগে পড়ে। খটাখট আওয়াজ আসতে থাকে।

ওর গায়ে আগুন পড়েছে, তাই বামুনঠাকরুনের একটু মায়া হয় দুখীর ওপর। পণ্ডিতমশাই খেয়ে উঠলে বলেন, চামারটাকে একটু কিছু খেতেটেতে দাও, বেচারা সেই কখন থেকে কাজ করছে, খিদে থাকতেই পারে।

পণ্ডিতমশাই এই প্রস্তাবটার বাস্তব দিকটা উপলব্ধি করে জিজ্ঞেস করেন, রুটি আছে?

পণ্ডিতগিন্নী–দু’চারখানা হয়তো বেঁচে যাবে।

পণ্ডিত দু’চারখানা রুটিতে কী হবে? ব্যাটা চামার, কম করে সেরখানেক তো গিলবে।

পণ্ডিতগিন্নী কানে হাত দিয়ে বলেন, ওরে বাপ রে! সেরখানেক! তাহলে থাকগে।

পণ্ডিতমশাই এবার উল্টো চাপ দেন, বলেন–কিছু ভুষি-টুষি থাকলে আটার সঙ্গে মিশিয়ে দু’খানা মোটা চাপাটি সেঁকে দাও না, শালার পেট ভরে যাবে। ওই পাতলা-পাতলা রুটিতে এসব ছোটলোকের পেট ভরে না। এদের তো জোয়ারের মোটা চাপাটি চাই।

পণ্ডিতগিন্নী বলেন, ছাড়ো তো, এই দুপুর-রোদে কে মরতে যাবে ওসব করে।

তিন
দুখী তামাক খেয়ে আবার কুড়ল নেয়। দম নিয়ে হাতে একটু জোর পায়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে একনাগাড়ে কুড়ল চালিয়ে যায়। তারপর অবসন্ন হয়ে সেখানে মাথাটা চেপে ধরে বসে পড়ে।

এর মধ্যে গোঁড় এসে পড়ে। বলে–কেন জানটা খোয়াচ্ছ বুড়োদাদা। কোপানিতে এই গাঁট ফাটবে না। শুধু-শুধু হয়রান হচ্ছ।

কপালের ঘাম মুছে দুখী বলে–এখনো একগাড়ি ভুষি বয়ে আনতে হবে রে ভাই।

গোঁড়–খেতে-টেতে কিছু দিয়েছে, না শুধু কাজই করিয়ে চলেছে। গিয়ে চেয়েটেয়ে কিছু নিচ্ছ-না কেন?

দুখী–বলছ কী চিখুরী! বামুনের অন্ন কি আমাদের পেটে হজম হবে?

গোঁড়া–হজম ঠিকই হবে, আগে পাও তো। গোঁফে তা দিয়ে তো ঠিকই খেয়ে নিয়ে তোমাকে কাঠ চেরার হুকুম দিয়ে আরাম করে ঘুমুচ্ছে, জমিদারও তো কিছু না-কিছু খেতে দেন। হাকিমও বেগার খাটালে কিছু না-কিছু মজুরি দেন। ইনি ওঁদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। নিজেকে ধাম্মিক বলে জাহির করছেন।

দুখী–আস্তে-আস্তে বল্‌রে ভাই, শুনে-টুনে ফেললে বিপদ হবে। বলে দুখী আবার কুড়ল চালাতে লাগল। দুখীকে দেখে চিখুরীর দয়া হল। এগিয়ে এসে ওর হাত থেকে কুড়লখানাকে কেড়ে নিয়ে একনাগাড়ে আধঘণ্টা খুব জোরে-জোরে কুড়ল চালাল; কিন্তু গাঁটে একটুখানি ফাটও ধরল না। কুড়লটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সে বলতে চাইলে–এ ঘাট চেরা তোমার কম্ম না, জান গেলেও পারবে না।

দুখী ভাবে–বাবাঠাকুর এই গাটটা পেলেন কোথায়, যাকে এত কুপিয়েও চেরা যাচ্ছে না। কোথাও একটুখানি চিড় পর্যন্ত খাচ্ছে না। আমি কতক্ষণ ধরে কোপাব এটাকে? ওদিকে বাড়িতে এখনও শতেক কাজ পড়ে রয়েছে। কাজকম্মের বাড়ি, একটা-না-একটা কাজ তো লেগেই আছে। কিন্তু এতে কার কী মাথাব্যথা! যাই ততক্ষণে না-হয় ভুষিগুলোই নিয়ে আসি। বলব, বাবাঠাকুর, আজ তো কাঠ চিরতে পারলাম না, কাল এসে না-হয় চিরে দেব।

ঝুড়ি মাথায় করে দুখী ভুষি বয়ে আনল। বাড়ি থেকে খামার দুফার্লংয়ের কম নয়। খুব চাপাচাপি করে ঝুড়ি যদি ভরে আনতে পারত তাহলে কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেত বটে, কিন্তু মাথায় তুলে দেবে কে ঝুড়ি। পুরোপুরি ঠাসা ঝুড়িটাকে একা মাথায় তুলতে পারে না। তাই অল্প-অল্প করেই আনে। চারটে নাগাদ ভুষি আনা তার শেষ হয়। পণ্ডিতমশাইয়েরও ঘুম ভাঙে। মুখ-হাত ধুয়ে, পান খেয়ে বাইরে আসেন। দেখেন ঝুড়ির ওপর মাথা রেখে দুখী ঘুমুচ্ছে। জোরে হাঁক দেন–ওরে ও দুখিয়া! বলি, ঘুমুচ্ছিস? কাঠ তো এখনো যেমনকার ঠিক তেমনি পড়ে রয়েছে। এতক্ষণ তুই করছিলি কী? একমুঠো ভূযো আনতেই দিন কাবার করে ফেললি। তার ওপর আবার পড়ে-পড়ে ঘুমুচ্ছিস? নে নে, তোল কুড়ল। কাঠটা চিরে দে! তোকে দিয়ে একটুখানি কাঠ চেরানোও যায় না। লগনও তাহলে তেমনি হবে বুঝলি, আমাকে কিন্তু তখন দুষতে পারবি না। সাধে বলে, ছোট জাতের ঘরে খাবার জুটল তো ব্যস ওদের মতিও পালটে গেল।

দুখী আবার কুড়ল হাতে নিল। যেকথা বলবে বলে ভেবে রেখেছিল, সেসব ভুলে গেল। পেট পিঠে লেগে গেছে। সেই সকাল থেকে জলটুকু পর্যন্ত খায়নি। সময়ই পায়নি। উঠে দাঁড়াতেই কষ্ট হচ্ছে। দেহ বসে যাচ্ছে। তবু মনটাকে শক্ত করে উঠে দাঁড়াল সে। পণ্ডিতমশাই শুভ সময়টা ঠিকমতো যদি না-দেখে দেন, তাহলে হয়তো সব্বনাশ হয়ে যাবে। এজন্যেই তো সংসারে তার এত খাতির, এত মান। শুভ মুহূর্তেরই তো সব খেলা। যাকে ইচ্ছে শেষ করে ফেলতে পারলে ইনি। পণ্ডিতমশাই কাঠটার কাছে এসে দাঁড়ান, আর উৎসাহ দিয়ে যান–মার কষে, আবার মার-কষে মার কী রে, মার। না রে জোরে–তোর হাতে তো যেন জোরই নেই–লাগা কষে, দাঁড়িয়ে ভাবছিস কী! হা হা, ব্যস্ এই তো ফাটল বলে! দে দে, ওই ফাটলতাতেই আবার দে।

দুখীর হুঁশ থাকে না! না-জানি কী এক গুপ্তশক্তি ওর বাহু দুটিতে ভর করেছে। ক্লান্তি, অবসাদ, ক্ষুধা সবই যেন উবে যায়। নিজের বাহুবলে নিজেই অবাক। এক-একটি আঘাত পড়ছে যেন বজ্রের মতো। আধঘণ্টা ধরে উন্মাদের মতো সে কুড়ল চালিয়ে যায়। শেষে কাঠখানাও মাঝখান দিয়ে ফেটে যায়। সেই সঙ্গে দুখীর হাত থেকে কুড়লটাও ছিটকে পড়ে। মাথা ঘুরে পড়ে যায় দুখী। ক্ষুধায়, তৃষ্ণায় ক্লান্ত অবসন্ন শরীর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পণ্ডিতমশাই ডাকেন–নে রে, উঠে দু’চার কোপ আরও দিয়ে দে। পাতলা-পাতলা চ্যালা করে দে। দুখী ওঠে না। পণ্ডিতমশাইও ওকে আর এখন বিরক্ত করা উচিত মনে করেন না। ভেতরে গিয়ে ভাঙের শরবত খান, শৌচকর্ম সারেন, স্নান করেন, তারপর পণ্ডিতমশাইয়ের পোশাকে সেজেগুজে বাইরে আসেন। দেখেন দুখী তখনো একইভাবে পড়ে রয়েছে। পণ্ডিতমশাই জোরে ডাক দেন–অ্যাই দুখী, তুই কি শুয়েই থাকবি রে, চল তোর বাড়িতেই যাচ্ছি। সব জিনিসটিনিস ঠিকঠাক জোগাড় করে রেখেছিস তো? দুঃখী কিন্তু তবু ওঠে না।

এবার পণ্ডিতমশাইয়ের মনে ভয় হয়। কাছে গিয়ে দেখেন, দুখী টানটান হয়ে পড়ে আছে। ভড়কে গিয়ে ভেতরে ছোটেন, গিয়ে বামুনগিন্নীকে বলেন, দুখিয়াটা মনে হচ্ছে মরে গেছে।

পণ্ডিতগিন্নী হকচকিয়ে বলেন–তো! এক্ষুণি তো কাঠ চিরছিল!

পণ্ডিত–হ্যাঁ, কাঠ চিরতে-চিরতে মরে গেছে। সর্বনাশ হয়েছে, এখন কী হবে?

পণ্ডিতগিন্নী ঠাণ্ডা গলায় বলেন–কী আবার হবে, চামারবস্তিতে খবর পাঠিয়ে দাও মড়া তুলে নিয়ে যাবে।

কিছুক্ষণের মধ্যে সারা গায়ে খবর রটে যায়। বামুনদেরই ঘর সব। কেবল এক ঘর গোঁড়। ওদিকের রাস্তা দিয়ে হাঁটা সবাই ছেড়ে দেয়। কুয়োতে যাবার রাস্তা ওদিক দিয়েই, জল আনবে কী করে! চামারের মড়ার পাশ দিয়ে জল আনতে যাবে কে? এক বুড়ি গিয়ে পণ্ডিতমশাইকে বলে, এখনো মড়াটা ফেলাচ্ছ না যে। গায়ে কেউ জলটল খাবে-না নাকি!

এদিকে চিখুরী চামারবস্তিতে গিয়ে সবাইকে সাবধান করে দিয়ে আসে–খবরদার, মড়া আনতে কেউ যাবি না। এক্ষুনি পুলিশ আসবে, তদন্ত হবে। মজা পেয়েছ নাকি যে একটি গরিব বেচারাকে এভাবে পরানে মেরে ফেলবে। পণ্ডিতই হন আর যেই হন, সে তো নিজের কাছে। লাশ যদি তোরা আনিস তবে পুলিশ তোদেরও বেঁধে নিয়ে যাবে।

তার কথার পর-পরই পণ্ডিতমশাই গিয়ে পৌঁছান। কিন্তু চামারবস্তির কোনও লোক লাশ তুলে আনতে রাজি হয় না। শুধু দুখীর বউটা আর মেয়েটা হাহাকার করতে-করতে ছুটে যায়। পণ্ডিতমশাইয়ের বাড়ির দরজায় গিয়ে ওরা কপাল চাপড়ে-চাপড়ে ডুকরে কাঁদতে থাকে। ওদের সঙ্গে আরও পাঁচ-দশটা চামার মেয়েছেলে–কেউ কাঁদছে, কেউ-বা ওদের সান্ত্বনা দিচ্ছে। চামার বেটাছেলে নেই কেউ। পণ্ডিতমশাই চামারদের ওপরে খুব চোটপাট করেন, বোঝান, কাকুতি-মিনতি করেন, কিন্তু চামারদের সবার মনে পুলিশের ভয় এতটা ছড়িয়ে পড়েছে যে, একজনও রাজি হয় না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে উনি ফিরে আসেন।

চার
মাঝরাত পর্যন্ত কান্নাকাটি চলে। ব্রাহ্মণ দেবতাদের পক্ষে ঘুমোনো মুশকিল হয়ে পড়ে। লাশ নিয়ে যেতে কোনও চামারই আসে না। এদিকে বামুনরাই-বা চামারের মড়া ছোঁবে কী করে। এমন কথাও কি কোনো শাস্ত্ৰ-পুরাণে লেখা আছে? কই, দেখিয়ে দিক তো কেউ!

পণ্ডিতগিন্নী গজর-গজর করেন–এই ডাইনিগুলো তো মাথা খেয়ে ফেললে। এগুলোর গলাও ব্যথা করে না!

পণ্ডিতমশাই বলেন–কাঁদুক পেত্নীগুলো, কতক্ষণ কাঁদবে? যদ্দিন বেঁচে ছিল, কেউ একবার পৌঁছেও নি। মরে গেছে, এখন চিল্লাচিল্লি করতে সবক’টা এসে জুটেছে।

পণ্ডিতগিন্নী–চামারের কান্না অলক্ষুণে নাকি গো?

পণ্ডিত–হ্যাঁ, বড্ড অমঙ্গলের।

পণ্ডিতগিন্নী–এখন থেকেই গন্ধ বেরুচ্ছে।

পণ্ডিত–চামার তো। খাদ্যাখাদ্যের কি কোনও বাছবিচার আছে ওগুলোর?

পণ্ডিতগিন্নী–ওগুলোর ঘেন্নাও করে না।

পণ্ডিত–সবকটা ভ্রষ্ট।

.

রাত তো কাটল কোনও মতে, কিন্তু সকালেও কোনও চামার এল না। চামার মেয়েছেলেরাও কেঁদেকেটে চলে গেছে। একটু-একটু করে ছড়াতে শুরু করেছে দুর্গন্ধ। পণ্ডিতমশাই একগাছি দড়ি নিয়ে আসেন। দড়ির ফাঁস বানিয়ে মড়ার পায়ে ছুঁড়ে দেন। তারপর টান মেরে কষে নেন ফাঁসটা। আবছা-আবছা অন্ধকার। পণ্ডিতমশাই দড়ি ধরে লাশটাকে টানতে শুরু করেন। টানতে-টানতে গাঁয়ের বাইরে টেনে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে স্নান করে নেন চটপট, চণ্ডীপাঠ করেন। তারপর সারা বাড়িতে গঙ্গা জল ছিটিয়ে দেন।

ওদিকে দুখীর লাশটাকে শেয়াল, শকুন, কুকুর আর কাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়। তার আজীবন ভক্তি, সেবা আর ধর্মনিষ্ঠার পুরস্কার!

the page is in progress 

Russian Literature ll অনুবাদ সাহিত্য

A Short Story from the Masterpieces of Russian Literature by Anton Chekhov

An old peasant carried his sick wife in the back seat of the cart, drawn by a frail horse, taking her to a distant city for treatment.

On the long journey, the man began to speak, confiding as if talking to himself, yet at the same time comforting his ailing wife. She had lived with him for forty years, enduring hardship, misery, and suffering—working tirelessly in the fields and single-handedly managing all the household burdens.

Now, he felt he had been harsh with her all these years. He realized that he must treat her with kindness and tenderness, letting her hear sweet and gentle words.

He told her that he had wronged her and that life had also been unjust to her, for he never found time in his daily routine to offer her a kind, affectionate word, a warm smile as pure as water, or a moment of tenderness!

Throughout the journey, he spoke with sorrow and regret, his words carving deep grooves into the human soul—like water steadily falling onto stone. He sought to compensate her—through words—for the love, warmth, and tenderness she had been deprived of for forty years. He made promises, assuring her that he would fulfill all her wishes in the years to come…

Upon reaching the city, he stepped down from the front seat to carry her in his arms—for the first time in his life—to the doctor. But he found her lifeless. She was cold, a mere corpse. She had died on the way—before hearing his sweet and sorrowful words!

Here, the tale of pain ends—written by Chekhov—leaving us like the old peasant, speaking to ourselves but only after it is too late.

Words are no longer useful now…
They have lost their meaning!

We only realize the value of those around us at the end!

Giving a flower at the right time is better than offering everything you own when it's too late.

Saying a kind word at the right moment is better than writing a poem after emotions have faded away.

There is no use for things that come too late—like a kiss of apology on the forehead of the dead.

"Do not delay beautiful things… for they may never come again."

the page is in progress 

Wednesday, 5 March 2025

বাংলা সাহিত্য সংগ্রহ ll শিবরাম চক্রবর্তী

হর্ষবর্ধন যাচ্ছেন ট্রেনে। টিকেট চেকারের আহ্বানে টিকেট বাড়ি়য়ে দিলেন।
চেকার : "এ কি মশাই, বুড়ো হতে চললেন, এখনও হাফ টিকেট? বলি, দুধের বোতলটা সঙ্গে এনেছেন তো?"
হর্ষবর্ধন : "অযথা বাক্য ব্যয় করে সময় নষ্ট করবেন না। আমি তো একা নই, সঙ্গে আরও দুজন আছে।" বলে সিটের নিচ থেকে গোবর্ধন আর নিবারণকে টেনে বের করলেন।
চেকার : "ওদের দুজনের টিকেট?"
হর্ষবর্ধন : "ওই যে দেখালাম!"
চেকার : "সে কি মশাই, মানুষ তিনজন আর একটা হাফ টিকেট? এটা কি মগের মুল্লুক পেয়েছেন?"
হর্ষবর্ধন : "মা-বাবা মাথা মাটি করে ম্যাথেম্যাটিকস্ কেন শিখিয়েছিলেন? নিচে ২ আর উপরে ১ থাকলে সেটা দুই ভাগের এক, মানে হাফ-ই তো হল।"

লেখক: শিবরাম চক্রবর্তী

Monday, 3 March 2025

My Blog Post ll Looking Behind ll Rabi Roy

বছর কুড়ি আগেও পাড়াগুলোতে পাড়া কালচার ছিল। আর ছিল রোয়াক। পাড়ার উঠতি থেকে পড়ন্ত যুবকরা সেখানে আড্ডা মারত। সাথী ছিল চা, কাউন্টার করে খাওয়া সিগারেট আর মাঝে মধ্যে টুকটাক তেলেভাজা কি ঝালমুড়ি। ওয়াও, মোমো বা মনজিনিস তখনও ভবিষ্যতের গর্ভে। রেস্তোরাঁ কালচার তখনও বাঙালীর জীবনযাত্রায় প্রবেশ করেনি। 

পাড়ার যুবকদের একটা করে ভালো নাম ছিল ঠিকই, কিন্তু সেগুলো কেবল স্কুল-কলেজে ব্যবহার হওয়ার জন্য। পাড়ার মধ্যে তারা হাবুল, পটলা, বাপি নামেই পরিচিত ছিল। কখনও কখনও চেহারার বৈশিষ্ট্য অনুসারের নাম দেওয়া হত। ঢ্যাঙা, ন্যাড়া, কালু ইত্যাদি নামগুলি ছিল তারই প্রতিফলন। বডি শেমিং নিয়ে আমজনতা তখনও সচেতন হয় নি৷ তাই এমন সব নাম নিয়ে আপত্তির কিছু ছিল না কারো কাছে। ঢ্যাঙা বা কালুরাও তাদের নাম শুনে স্বাভাবিক ভাবেই সাড়া দিত।
পাড়ায় বিয়ে বাড়ি হোক বা শ্রাদ্ধ বাড়ি, আগুন লাগা হোক বা মাঝ রাতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সব ব্যাপারে রোয়াকের যুবকরাই ছিলেন অগ্রণী। পাড়ায় কারো বিয়ে লাগলে যেমন কোমরে গামছা বেঁধে পরিবেশন করতে লাগত আবার তেমনই কেউ মারা গেলে শবদেহে কাঁধ দেবার লোকেরও অভাব হত না। মাঝরাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলেও কোনো সমস্যা ছিল না৷ রোগীর বাড়ির লোকের এক ডাকেই পটলা-হাবুলরা সাইকেল ভ্যানে রোগীকে চাপিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেত। সারারাত জেগেও থাকত হাসপাতালে। দরকারে নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে ওষুধও কিনতো রোগীর।

উপদ্রবও যে একেবারে ছিল না তা নয়। পুজোয় চাঁদার জন্য হুজ্জোতি করা, সরস্বতী পুজোর আগের দিন এর ওর বাড়ির পাঁচিল ডিঙিয়ে বাগান থেকে ফল ফুল পেড়ে আনা, কারো পোষা মুরগী চুরি করে পয়লা জানুয়ারী বা মহালয়ার রাতে 'ফিস্টি' এসব লেগেই থাকত৷ পাড়ার খিটকেলে বুড়ো-বুড়িদের নানা আপত্তিকর সৃজনশীল নামে ডেকে তাদের রাগিয়ে দিয়ে গালাগাল খেয়ে মজা পাবার বদভ্যাসও অনেকেরই ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে পটলা-হাবুল-বাপিরা ছিল পাড়ার এক একটা স্তম্ভ। পাড়াগুলো তাদের ছাড়া অচল ছিল। 

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। অনেক বদল ঘটেছে মফঃস্বল থেকে বড় শহর সর্বত্র। পাড়া কালচার আজ বিলুপ্তপ্রায়। পাড়ায় রোয়াকের দেখা পাওয়া এখন ডোডো পাখির দেখা পাওয়ার চেয়েও বেশী কঠিন৷ আর হাবুল-পটলা-বাপিরা? তারাও হারিয়ে গেছে কালের স্রোতে। সর্বনাশা কেরিয়ারের ইঁদুর দৌড়ের যুগে এ যুগের হাবুল-পটলারা কেউ এখন মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির সুট বুট পরা চাকুরে, কেউ সরকারী কেরানি, কেউ বা আবার জোম্যাটো বা সুইগির ডেলিভারি বয়। কাজের চাপে আড্ডা তো পরের কথা, মুখ দেখাদেখিই হয় না মাসের পর মাস। কেউ কেউ আবার কাজের সন্ধানে চলে গেছে দূর দেশে। ন'মাসে ছ'মাসে দেশে ফেরে। আড্ডা মারা দূরে থাক, পাড়ার সবার নামই জানে না ভালো করে কেউ। বাড়িই বা আর কোথায় পাড়ায়৷ সব ভেঙে গড়ে উঠছে একের পর এক ফ্ল্যাট। সুসজ্জিত সেসব ফ্ল্যাটে আস্তানা গাড়ছে বহিরাগত বিভিন্ন মানুষরা। তাদের টান নেই পাড়ার প্রতি। অনেকের ভাষা সংস্কৃতিও ভিন্ন। 
পটলা-হাবুল-বাপিরা আর ফিরবে না কোনোদিন। রাতের আকাশের তারার মতই তারা মিলিয়ে গেছে কালের গহীন গর্ভে।
*সংগৃহীত। আমার নিজের অভিজ্ঞতা পরে বলবো